Tuesday, January 25, 2022

ভগবান সরল মানুষের সহায়ক।।

 হয়তো অর্জুন শ্রেষ্ঠ ধনুর্ধর নয়। হয়তো শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা নয়।

কিন্তু অর্জুন সরল ছিলো, তাই যুদ্ধের শুরুতে অপরপক্ষে নিজের স্বজনদের দেখে তার আত্মা কেঁদে উঠেছিল। হিংসার সংগ্রামের মাধ্যমে সে রাজত্ব পেতে চায়নি। তাই অস্ত্র ফেলে দিয়েছিল।

 অর্জুন কাতর স্বরে কৃষ্ণকে বলেছিল এভাবে রাজত্ব পাওয়ার থেকে বনে গিয়ে সন্ন্যাসী হয়ে যাওয়া ভালো। যুদ্ধ ছেড়ে দেওয়ার পূর্বে অর্জুন এও জানতো না অপরপক্ষে কর্ণ তার মায়ের পেটের ভাই।


 হয়তো কর্ণ শ্রেষ্ঠ ধনুর্ধর ছিলো। শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা ছিলো। মহা-দানী ছিলো। কিন্তু যুদ্ধের আগে থেকেই কর্ণ জানতো বিপক্ষে তার পাঁচটি ভাই আছে। তবু সে যুদ্ধ প্রত্যাহার করতে পারেনি। কারণ সে দুরাত্মা দুর্যোধনের থেকে রাজ্য ভোগের সুবিধা নিয়েছিলো। দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষের থেকে সুবিধা নেওয়ায়, কর্ণ দায়বদ্ধ ছিলো অধর্মের পক্ষে যুদ্ধ করতে।


তাহলে কি প্রাপ্তি হলো শ্রেষ্ঠ হয়ে? যদি শ্রেষ্টতা দুর্নীতির পক্ষ নেয়? তাহলে কি শ্রেষ্টতার কিছু অবশেষ থাকে?


ঈশ্বর কোনোকালেই শ্রেষ্ঠ মানুষের সাথে থাকে না। থাকে সরলতার সাথে। কারণ এই পৃথিবীতে কেউ আজীবন শ্রেষ্ঠ থাকে না। তাকে কেউ না কেউ এককালে ছাপিয়ে যায়।


হরে কৃষ্ণ 🙏🏼


Ave


ek Chowdhury

Monday, January 24, 2022

"আকর্ষণের সূত্র” চ্যাপ্টার 1/3 (i)







 

 জীবনে জটিল পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে একমাত্র এমন প্রশ্ন আসে। আমি কে ? আমার সাথেই সবকিছু ওলট-পালট কেন হচ্ছে ? আমার ক্ষেত্রে ঠিক এমনই হয়েছিল।
বাকিদের ক্ষেত্র এর থেকে ব্যতিক্রম কিছু হয়না। কারণ আমি কে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমি সবার প্রথমে আবিষ্কার করেছি আমি 'আমরা' ছাড়া কেউ নই।

হ্যা ঠিক পড়ছেন আমি ও আমরা সমান্তরালভাবে একসূত্রে গাঁথা। ঠিক যেমন আমরা ছাড়া 'আমির ' কোনো গুরুত্ব নেই। তেমনই 'আমি' ছাড়া আমাদের কোনো গুরুত্ব নেই।

 তাই যে মানুষ আমাদের গুরুত্ব দিতে জানে। সে অজান্তেই নিজেকে ও গুরুত্ব দেওয়া শুরু করে।
আমি কি শুধুমাত্র আমার শরীর। নাকি শরীরে বাহিরেও আমার কোন অস্তিত্ব আছে। সেই অস্তিত্ব কি এতই বৃহৎ যাকে বেঁধে রাখার জন্য এই শরীরের প্রয়োজন।
 যদি আমিও আমার শরীর দুটো পৃথক জিনিস হয়। আমি একটি সত্তা। এই শরীর আমার যন্ত্র। যার মাধ্যমে আমি সঠিক ভাবে নিজের সত্তাকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখব।
 নিয়ন্ত্রণ করা অর্থাৎ সুখে-শান্তিতে এবং অন্যজনের জন্য শান্তির পরিবেশ তৈরি করে জীবন কাটানো।

 অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর উল্টোটাও হয়।  যেমন নিজে অশান্তিতে থাকা ও অন্যজনের জন্য অশান্তির পরিবেশ তৈরি করে জীবন কাটানো। দীর্ঘস্থায়ী অশান্তিতে মানুষ যখন সম্পূর্ণ ভেঙে পরে তখন সে সুখের পথ খুঁজতে চায়।
 সেই পথের প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে আমি কে? আমার কি প্রয়োজন এই পৃথিবীতে? আমি কি উদ্দেশ্যহীনভাবে পৃথিবীতে আছি।


 ভগবত গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ  বলছেন, “আমরা শুধু শরীর নই। আমরা আত্মা। যা শরীর কে ধারণ করে রাখি। শরীর জন্ম মৃত্যু জরা বার্ধক্য এই চারটি অনিবার্য ত্রুটির দ্বারা রচিত। তবে আত্মা এসব কিছুর উর্ধে। না এর জন্ম হয়, না এর মৃত্যু হয়। আত্মা শাশ্বত। একে না জলে ভেজানো যায়। না বায়ুতে শুকানো যায়। না অগ্নিতে পোড়ানো যায়। না অস্ত্রের দ্বারা কাটা যায়।”


এর থেকে আমরা পরিষ্কার ধারণা পাই। আমরা কেবলমাত্র শরীর নই। তার থেকে অনেক বৃহৎ কিছু। এতই বৃহৎ তাকে সীমাবদ্ধ করে সঠিক জ্ঞান দেওয়ার জন্যই শরীরে সৃষ্টি।
জীবনে জটিল পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে একমাত্র এমন প্রশ্ন আসে। আমি কে ? আমার সাথেই সবকিছু ওলট-পালট কেন হচ্ছে ? আমার ক্ষেত্রে ঠিক এমনই হয়েছিল।
বাকিদের ক্ষেত্র এর থেকে ব্যতিক্রম কিছু হয়না। কারণ আমি কে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমি সবার প্রথমে আবিষ্কার করেছি আমি "আমরা ছাড়া কেউ নই।"


সঠিক জ্ঞানের বিকাশ হয় জটিল পরিস্থিতিতে। কেউ সহজ পরিস্থিতি থেকে এই সংসারের অন্যতম সেরা মানুষের পরিণত হয়নি। এমনকি ভগবান বুদ্ধও নন।


তাই যদি জীবনে এই মুহূর্তে আপনি জটিল পরিস্থিতিতে আছেন, তাহলে সেই জটিল পরিস্থিতির কাছে কৃতজ্ঞ হন। কারণ এই দুর্বিষহ পরিস্থিতি আপনিকে তা জানার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। এবং তাকে বদলানোর জন্য আপনি নতুন কিছু শিখছেন। আপনি জানতে চলেছেন ম্যাজিকের কথা। সেই জাদু যা আপনার বর্তমান জটিল অবস্থাকে সুখের সরল অবস্থায় পরিণত করবে।

"আকর্ষণের সূত্র” চ্যাপ্টার 1/2










আমরা মানুষেরা কবে থেকে এই গ্রহে আছি, এর হয়তো সঠিক তথ্য আমাদের কাছে নেই! কিন্তু বাস্তবিক কথা হচ্ছে আমরা এই গ্রহে আছি। যা এই ব্রহ্মাণ্ডের  অন্তর্গত। এই গ্রহতে সুখী হওয়ার কি দুঃখী হওয়ার উপায় উপাদান সমূহ মজুদ আছে।

 চাইলেই আমরা সুখী হতে পারি। কি চাইলেই আমরা দুঃখী। সুখ অথবা দুঃখ অনুভব কি বাইরের পৃথিবীর আচরণের উপর নির্ভরশীল ? নাকি তা সম্পূর্ণ মনের তৈরি করা মায়াজাল বা ভ্রম। 


  এই মায়াজাল খুব প্রখর। আমাদের ভাবতে বাধ্য করে আমরা এই পৃথিবীর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বর্তমান পৃথিবীর ধনকুবেররা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ভাবে সর্বস্তরে সমাজের বৃহৎ শ্রেণীকে নিয়ন্ত্রণ করে। সেই শ্রেণীকে আমরা সাধারণ মানুষ বলি। সাধারণমানুষদের নিয়ন্ত্রিত করে, তারা পরিণত হয় অসাধারণ মানুষে। অথচ এই ধনকুবেররা প্রত্যেকেই একদিন সাধারণ স্তরে ছিলেন। হঠাৎ করে তাদের সাথে কি ম্যাজিক ঘটলো ? যে তারা রাতারাতি অসাধারনে পরিণত হল।

 কিভাবে এক সাধারণ ঘরের বালক হয়ে উঠল পৃথিবীর সেরা সঙ্গীত শিল্পী! সামান্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করে এক মানুষ হয়ে উঠল জননায়ক গান্ধী ? কি ছিলো সেই প্রক্রিয়া ? কি ছিল সেই ম্যাজিক ?

  হ্যা ম্যাজিক পৃথিবীতে ঘটে। কারণ এই পৃথিবী এক আশ্চর্যজনক স্থান। আপনি বেঁচে আছেন এটাই সবচেয়ে বড় আশ্চর্যকর বিষয়। জাদুকররা এই পৃথিবীতে জন্মায়। তারা নিজেরা অসাধারণ হয় এবং অসাধারণ করে তোলে তাদের সৃষ্টিকে।


  আমরা পরবর্তী পর্যায়ে সেই ম্যাজিক' নিয়ে আলোচনা করব।

Sunday, January 23, 2022

আকর্ষণের সূত্র Chapter 1/1

বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় গুলির মধ্যে একটি ল অফ অ্যাট্রাকশন। অর্থাৎ আকর্ষণের সূত্র।

অনেকেই এই বিষয় সম্পকে মন্তব্য ও ভিডিও বানিয়ে থাকে। আর মানুষও নিজেদের উইশ পুরোনের আশায় সেই ভিডিও গুলি দেখে। ও সেগুলি অনুযায়ী কার্য করে। তবে বেশিরভাগ ভিডিও গুলি ভ্রান্তিপূর্ণ ও ভুলে ভরা। যার ফলে মানুষ উপকৃত হওয়ার জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত বেশী হয়।




ইউটিউব দেখে অনেক মানুষ ল অফ অ্যাট্রেকশন এর মাধ্যমে বিভিন্ন জিনিসকে  পেতে চায়। সুখের করে তুলতে চায় তাদের জীবন। তারা ক্রমাগত মনকে এফর্মেশন পাঠায় “আমি দুঃখে থাকতে চাই না।” যা একটি ভয়ঙ্কর ভুল। এতে ধ্বংস হতে পারে আপনার সমগ্র জীবন। ধরুন এই ব্রহ্মাণ্ড একটি বৃহত্তর ব্রেইন। যার ভাষা জ্ঞান নেই কিন্তু অনুভূতি জ্ঞান আছে। তাই আপনি যখন তার কাছে দুঃখ শব্দটি উচ্চারণ করবেন। বুঝতে পারবে না আপনি দুঃখে থাকতে চান কি চান না। সে শুধু দুঃখ শব্দটা যে ফিলিংস বহন করে তাকে অনুভব করবে। এবং আপনার পরিস্থিতি দুঃখেরই তৈরি করার উপক্রম করে। 

সেই ক্ষত্রে আমাদের সংকেত পাঠানো উচিত, এবং সংকেত পাঠানোর সময় অনুভব করা উচিত খুশি অথবা আনন্দ। সেটাও বর্তমানকালের অনুভূতি। কারণ অতীত ও ভবিষ্যৎ এই দুই জিনিস এটি কোন অস্তিত্ব নেই। উভয়েই ইলিউশন। অতীত যার কথা ভেবে আপনি বর্তমানে দুঃখ অনুভব করছেন। ভবিষ্যৎ চিন্তায় আপনি বর্তমানে আতঙ্কিত হচ্ছেন। উভয়েই আপনার বর্তমান কালকে ধ্বংস করছে। অর্থাৎ এই মুহূর্তে আপনার যা সাধন আছে তা হচ্ছে নষ্ট। উইশ করার সময় সবসময় বর্তমানকালের কথা মাথায় রাখতে হয়। ধ্বংস হচ্ছে আপনার সময়।

সুখে থাকার উইশ হচ্ছে “আমি আনন্দে আছি, আনন্দ অনুভব করছি।” এটি একটি মজার নাটকীয় খেলা। আমি যত সুখের অভিনয় করে সুখে থাকার সংকেত মহাবিশ্বকে দেবেন, হত আগ্রহী ভাবে মহাবিশ্ব আপনার জন্য সুখের কারণ তৈরি করার প্রচেষ্টা করবে। হ্যা একটি অভিনয়ের খেলা, যা মহান লেখক শেক্সপিয়ার নিজের উক্তির মাধ্যমে ও রেখে গেছেন। ‘পৃথিবী একটি রঙ্গমঞ্চ।’ যারা এই সংকেতের পাঠোদ্ধার করেছেন তারা হয়েছেন অসাধারণ। পরিণত হয়েছেন নায়কে। পিছিয়ে রয়েছে যারা তারা তাদের পৃথিবীর পার্শ্বচরিত্র।




বর্তমান পরিস্থিতি যতই জটিল বা খারাপ হোক না কেন। সেই পরিস্থিতি আপনারই সৃষ্টি। আপনার সক্রিয় মনের মনের কার্যকলাপ যে অভ্যাস তৈরি করেছে, অস্থায়ীভাবে জমা হয়ে রয়েছে অবচেতন মনে। এবং সেই অবচেতন মনের পাঠানোর তীব্র বার্তাই আপনার জন্য মায়ার দুর্বিষহ জাল বুনে রেখেছে। আপনার কোন পরিস্থিতি আপনি তৈরি করে বসে আছেন। এবং পরিস্থিতি আপনি বদলাতে পারেন। শুধু আপনার খেলার ধরন বদলে। খেলাটা দুঃখের ছিলো, দুঃখে থাকার ছিলো। এখন থেকে খেলাটা শুরু হবে সুখে থাকার অভিনয় করে। যত নিপাট আপনি সুখে থাকার অভিনয় করবেন। মহাবিশ্ব ততই আপনার জন্য সুখের পরিস্থিতি তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করবে। “ খেলাটা আবার একবার নতুন করে শুরু করি একসাথে।”


আপনার বর্তমান পরিচিতি, আপনার অতীতের চিন্তার ফল

 মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ মস্তিষ্ক। মস্তিষ্ক এমন এক আশ্চর্য শক্তি যা সর্বদা আপনার সাথে থাকে। সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্ট বিখ্যাত গোয়েন্দা ফেলু...